SHAMIM AHMED BLOG: Horror story

I am shamim ahmed, I love Bangladesh

Showing posts with label Horror story. Show all posts
Showing posts with label Horror story. Show all posts

Tuesday, 27 February 2018

সত্য ঘটনা.....✌

February 27, 2018 0
সত্য ঘটনা.....✌
সত্য ঘটনা -
২০১১ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকের ঘটনা। একটু একটু শীত পড়তে শুরু
করেছে।
জেবা আমার স্ত্রী। জেবার বাবার বাড়ি থেকে খবর
এসেছে ওর মার শরীরটা ভীষণ খারাপ
যাচ্ছে। জেবার আর কোন বোন নেই
তাই জেবার ওখানে থাকাটা খুবই
জরুরী। জেবাকে ওর বাবার
বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে সেদিনই রওনা দিলাম। ফিরতে বেশ রাত হল।
মাঝ রাস্তায় এসে হঠাৎ গাড়ি নষ্ট
হয়ে গেল। রাত তখন প্রায়
সাড়ে এগারোটা। আশেপাশে কোন
লোকালয় দেখা যাচ্ছে না। কয়েক
কিলোমিটারের মধ্যে কোন গাড়ির গ্যারেজ আছে কি না তাও সন্দেহ।
গাড়ি থেকে নেমে এদিক সেদিক
তাকালাম। কিন্তু কাউকেই
দেখা যাচ্ছে না। ভীষণ
বিপদে পরে গেলাম। সকাল
না হওয়া পর্যন্ত গাড়িতেই রাত কাটাতে হবে। গাড়ির ভেতর
গিয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমে সবে মাত্র
একটু একটু চোখ বুজে আসছে, ঠিক এমন
সময় মনে হল কেউ একজন গাড়ির
বাইরে থেকে ঠুকাঠুকি করছে। শব্দ
শুনে চমকে উঠলাম। ভাবলাম কোন ডাকাত নয়তো? গাড়ির গ্লাস সামান্য
একটুকু ফাঁকা করে তাকাতেই
দেখি মাঝ বয়সের এক লোক
দাঁড়িয়ে আছে। সে আমাকে বলল, ভাই
আমি ভীষণ বিপদে পরেছি। পকেটমার
আমার সব টাকা নিয়ে গেছে। এখন আমি আমার বাড়ি যেতে পারছিনা।
দয়া করে আপনার
গাড়ি করে আমাকে একটু
পৌঁছে দিবেন? লোকটার কথায়
প্রথমে ভীষণ বিরক্তিবোধ হচ্ছিল।
পরে মনে হল, বিপদে না পরলে কেউ এভাবে বলেনা। আমি তাকে বললাম,
ভাই আমার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। আর
এজন্য আমি নিজেই যেতে পারছিনা।
আপনাকে নিব কিভাবে?
লোকটি বলল, আপনার গাড়ি ঠিকই
আছে। দেখেন! আমি লোকটির কথা শুনে গাড়িতে স্টার্ট দেই।
কি অদ্ভুত ব্যাপার! গাড়ি প্রথম স্টার্ট
দিতেই চালু হয়ে গেল। ব্যাপারটা তখন
আমার কাছে কাকতালীয় মনে হচ্ছিল।
ভাবলাম গাড়ি যেহেতু ঠিক
হয়ে গেছে, তাহলে শুধু শুধু এখানে থাকার কোন মানে হয়না। তাই
আমি লোকটিকে গাড়িতে উঠতে বললাম।
লোকটি যখন গাড়িতে উঠল, তখন তার
সাথে কি একটা যেন বড় ঝুপড়ির মত
গাড়িতে উঠাল।
লোকটিকে নিয়ে আমি গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। আমি বেশ কয়েকবার লোকটির
নাম জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু
লোকটি কোন কথা বলছেনা। কিন্তু
গাড়িতে ওঠার আগে আমার
সাথে দিব্যি কথা বলছিল। যাইহোক,
আমি গাড়ি চালাচ্ছি। এমন সময় হঠাৎ আমার চোখ গেল লুকিং গ্লাসের
দিকে। আর আমি যা দেখতে পেলাম
তাতে আমার প্রান যায় যায় অবস্থা।
দেখি যে লোকটা গাড়িতে উঠছিল
সে ওখানে নেই। বরং তার জায়গায়
বসে আছে একটা বিশ্রী চেহারার অবয়ক। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আবার
ভাবলাম হয়তো আমার দেখার ভুল
হতে পারে। আমি পেছনে তাকালাম।
কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার! আমি এতক্ষন
লুকিং গ্লাসে যা দেখলাম তার
পুরটাই ছিল ভুল। আসলে সেখানে কোন অবয়ক ছিল না বরং সেই লোকটাই
বসেছিল।
গাড়ি চালাতে চালাতে আবার
আমার চোখ গেল লুকিং গ্লাসের
দিকে। এবার আমি শুধু সেই
অবয়কটাকেই দেখছিনা। এবার আমি দেখতে পাচ্ছি তার
সাথে আনা সেই
ঝুপড়ি থেকে সে অনেক গুলো মানুষের
হাত আর পা বের করে তার কোলের
উপরে রেখেছে আর
একটা একটা করে টেনে ছিরে ছিরে খাচ্ছে। আমি এবার আরও ভয় পেয়ে গেলাম।
ভাবলাম চোখের দেখা একবার ভুল
হতে পারে। তাই বলে বার বার?
আমি আবার সাহস
করে পেছনে তাকালাম। কিন্তু না।
এবারও মিলছে না। সেখানে সেই ধরনের কোন কিছুই নেই। লোকটা এবার
আমায় জিজ্ঞেস করল, আপনি কি ভয়
পাচ্ছেন? আমি লোকটাকে কোন কিছু
বুঝতে না দিয়ে বললাম, না আমি ভয়
পাচ্ছি না। এরপর আমি আর
লুকিং গ্লাসের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলাম না। তারপর কিছু দূর
যেতেই লোকটা আমাকে বলল, ভাই
গাড়ি রাখেন। আমি এখানেই নামব।
কিন্তু সে যেখানে নামল,
সেখানে না ছিল কোন লোকালয় আর
না ছিল কোন মানুষের আনাগোনা। জায়গাটা ছিল একেবারেই ফাঁকা।
লোকটা যখন নামল তখন তার
সাথে করে আনা সেই ঝুপড়িটি আর
দেখতে পেলাম না। আমি গাড়ির
এখানে ওখানে তাকালাম। কিন্তু
কোথাও সেই ঝুপড়িটি নেই। এবার লোকটি গাড়ি থেকে নেমে আমার
কাছে এসে বলল, এতক্ষন যা দেখেছ সব
ঠিকই দেখেছ।
ব্যাপারটা কাউকে কখনো বোলো না।
তার কণ্ঠস্বর পুরোটাই চেঞ্জ।
আমি বলে বুঝাতে পারবনা। ভয়ে আমার হাত পা কাজ করছে না।
এরপর আমি কিছুদিন ব্যাপারটা আড়াল
করে রাখলেও সম্পূর্ণভাবে তা আড়াল
করতে পারিনি। আমি প্রায় রাতেই
ঘুমের
ঘোরে গাড়িতে ঘটে যাওয়া ব্যাপারটা সপ্নে দেখতে থাকি আর চিৎকার করে উঠি। জেবা আমার
চিৎকারের কারন জিজ্ঞেস
করলে আমি জেবাকে ব্যাপারটা শেয়ার
করি। এরপর বেশ কয়কদিন আমি ঘুমের
ঘোরে আর সেই স্বপ্ন দেখিনি।
ভেবেছিলাম হয়তো সব ঠিক হয়ে গেছে।
কিন্তু না!
ঘটনাটা এখানেই শেষ না হয়ে তার
ঠিক কিছুদিন পর আমার সাথে আরও বড়
কিছু ঘটল। সেদিন অফিস ছুটির পর
গাড়ি খারাপ থাকার কারনে একটা রিক্সায়
করে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত তখন
প্রায় ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মত। মাঝ
রাস্তায় এসে হঠাৎ
রিকশা থেমে গেল। আমি বললাম, ভাই
কি হইছে? রিকশাওয়ালা আমার দিকে মুখ ফিরে তাকাল। কিন্তু
যা দেখতে পেলাম সেটা কখনই
আশা করিনি। এটা সেই লোক,
যাকে আমি কিছুদিন আগেই
গাড়িতে লিফট দিয়েছিলাম।
সে আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে বলল,
আপনাকে না বলছিলাম
ব্যাপারটা কাউকে না বলতে। কেন
বললেন আপনি? তার কথা শেষ
হতে না হতেই আমি রিকশা থেকে এক
লাফে নেমে দৌড় শুরু করি। আর অসতর্ক ভাবে রাস্তা পার
হতে গিয়ে এক্সিডেন্টে আমার
একটা পায়ে প্রচণ্ড চোট পাই।
জেবার এক চাচা ছিল, যে কিনা জিন/ভুত
বিষয়ে অনেক কিছুই জানতেন।
ঘটনা শুনে তিনি আমাদের বাসায় আসে আর আমাকে একটা তাবিজ দেয়।
তিনি আরও বলেন আমাকে খুব সতর্ক
হয়ে থাকতে। কেননা তার ধারনা সেই
অবয়কটা সুযোগ পেলেই আমার
ক্ষতি করতে পারে। তার দেয়া সেই
তাবিজ এখনো আমার হাতে বাধা এবং এই পর্যন্ত ঐ ধরনের
কোন সমস্যা আমাকে আর ফেস
করতে হয়নি। এমন কি সেই দুঃস্বপ্ন আর
কখনও দেখিনি।
এই ছিল ঘটনা ,